মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠকে বসেছেন— যা বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের আশা জাগিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠককে ট্রাম্প বর্ণনা করেছেন “অসাধারণ” বলে। অন্যদিকে বেইজিং জানিয়েছে, দুই নেতা “মূল বাণিজ্য ইস্যুসমূহ সমাধানের” বিষয়ে একমত হয়েছেন।
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক টানাপোড়েনপূর্ণ। মে মাসে একবার ‘অস্ত্রবিরতি’ ঘোষণা হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।
তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হলেও উভয় পক্ষের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, তারা একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছেন। সাধারণত এমন চুক্তি সম্পন্ন হতে বছর লেগে যায়, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে দেশগুলোকে অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হচ্ছে, কারণ ট্রাম্প একাধিক দেশের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিলেন।
দুর্লভ খনিজ ও সয়াবিনে অগ্রগতি
বৈঠকের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে চীনের পক্ষ থেকে ‘রেয়ার আর্থ’ বা দুর্লভ খনিজ রপ্তানিতে আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা। এই উপাদানগুলো স্মার্টফোন থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ট্রাম্প জানান, চীন এখন থেকে “অবিশ্বাস্য পরিমাণ” সয়াবিনসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানি শুরু করবে। বেইজিংয়ের পাল্টা শুল্কের কারণে আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা মার্কিন কৃষকদের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, চীন এই মৌসুমে ১ কোটি ২০ লাখ মেট্রিক টন সয়াবিন কিনবে এবং পরবর্তী তিন বছর প্রতি বছর কমপক্ষে ২ কোটি ৫০ লাখ টন আমদানি করবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও চীনের ওপর আরোপিত কিছু শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে, বিশেষ করে ফেন্টানিল তৈরির কাঁচামাল আমদানির সঙ্গে যুক্ত অংশে।
বাণিজ্যিক মহলে স্বস্তি
মার্কিন-চীন বাণিজ্য কাউন্সিলের সভাপতি শন স্টেইন এই বৈঠকের ফলাফলকে “একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, “এখন ব্যবসাগুলোর সামনে একটি স্থিতিশীল সময় এসেছে, যাতে উভয় সরকার দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দিতে পারে।”
তবে বাকি শুল্কগুলো বহাল থাকছে, যার ফলে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা পণ্যে গড়ে ৪০ শতাংশের বেশি কর বহাল থাকবে।
চীনের জন্য ইতিবাচক দিক ও প্রযুক্তি সংলাপের সম্ভাবনা
ট্রাম্প জানান, এখন চীনা কর্মকর্তারা এনভিডিয়া’র প্রধান জেনসেন হুয়াং-এর সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চিপ নিয়ে দুই দেশের প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এছাড়া ট্রাম্পকে আগামী এপ্রিল মাসে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে— যা দুই দেশের সম্পর্কের উষ্ণতার আরেকটি ইঙ্গিত।
তবে টিকটক ইস্যুতে কোনো অগ্রগতি হয়নি। মার্কিন প্রশাসন এখনো চায় অ্যাপটির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কার্যক্রম চীনা কোম্পানি বাইটড্যান্স থেকে আলাদা করতে।
ভিন্ন ভিন্ন কূটনৈতিক ভাষা
বৈঠকে দুই নেতার আচরণে স্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
শি জিনপিং ছিলেন সংযত ও লিখিত বক্তব্যের বাইরে কিছু বলেননি। তিনি জানেন, চীন এখন তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে আছে— বিশেষত রেয়ার আর্থ সরবরাহ ও নতুন বাণিজ্য অংশীদার তৈরি করার কারণে।
অন্যদিকে ট্রাম্প ছিলেন অনেক বেশি আবেগপ্রবণ, যদিও আগের সফরগুলোর তুলনায় কিছুটা চাপগ্রস্ত দেখাচ্ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ায় নিরাপত্তাবেষ্টিত এক ভবনে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের বৈঠকেই এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি ঘটে।
চীনের সাবেক উপদেষ্টা হেনরি ওয়াং বলেন, “বৈঠকটি অত্যন্ত সফল হয়েছে। যদিও এখনো কোনো চুক্তি হয়নি, তবে এ