পপসংগীতের জনপ্রিয় তারকা কেটি পেরি এবার নতুন পরিচয়ে আলোচনায়—মহাকাশ পর্যটক! ছয়জন নারীকে নিয়ে সম্প্রতি মহাকাশ ভ্রমণে অংশ নেন তিনি। এই ঐতিহাসিক অভিযানে কেটির সঙ্গে ছিলেন জেফ বেজোসের বাগদত্তা লরেন সানচেজ, সাংবাদিক গেইল কিং, নাসার মহাকাশ প্রকৌশলী আয়েশা বোয়ে, মানবাধিকারকর্মী আমান্ডা নুয়েন এবং প্রযোজক কেরিয়ান্ন ফ্লিন।
মিশনটি পরিচালনা করে জেফ বেজোসের মহাকাশভিত্তিক কোম্পানি ব্লু অরিজিন। নিউ শেপার্ড নামের স্বয়ংক্রিয় মহাকাশযানটি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম টেক্সাস থেকে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে আকাশে উড়ে যায়। যাত্রাটি ছিল মোটে ১০ মিনিট ২১ সেকেন্ডের, তবে অভিকর্ষহীন অবস্থায় কাটানো কয়েকটি মুহূর্ত এই নারীদের জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশেষ এই মিশনটিকে ‘এনএস-৩১’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। এটি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ, ১৯৬৩ সালে ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভার একক অভিযান পর এই প্রথমবার কেবলমাত্র নারীদের নিয়ে মহাকাশে গেল একটি মহাকাশযান।
মহাকাশে নিজের মেয়ে ডেইজির উদ্দেশে একটি ডেইজি ফুল নিয়ে যান কেটি পেরি এবং গেয়ে শোনান ‘হোয়াট আ ওয়ান্ডারফুল ওয়ার্ল্ড’। ফিরে এসে আবেগময় কণ্ঠে বলেন, “মা হওয়ার পর এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে গভীর অভিজ্ঞতা। এই অনুভূতিকে ঘিরে ভবিষ্যতে একটি গান তৈরি করার ইচ্ছা আছে।”
ব্লু অরিজিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো নারীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত এবং গণমাধ্যমে আগ্রহী করে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা।
এটি ছিল ব্লু অরিজিনের ১১তম মানববাহী সাব-অরবিটাল মিশন। যদিও ভ্রমণ ব্যয়ের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবুও বাণিজ্যিক মহাকাশ পর্যটনের দিগন্ত যে প্রসারিত হচ্ছে, তা বলাই যায়।