যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের শুল্কে বিপাকে বাংলাদেশি রপ্তানি, স্থগিত হচ্ছে অর্ডার

আন্তর্জাতিক
ঢাকার সাভারে অবস্থিত এসেন্সর ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার প্রোডাক্টস চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ ডলারের ব্যাগ রপ্তানির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করেই জাহাজীকরণ বন্ধের নির্দেশ দেয়। কারণ হিসেবে তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নতুন পাল্টা শুল্ক আরোপের পর মূল্যছাড় দাবি করছে।

এসেন্সরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, তারা প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, যার মধ্যে ৯০% যায় যুক্তরাষ্ট্রে। শুধু এসেন্সর নয়, একই ধরনের সমস্যায় পড়েছে আরও কয়েকটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান।

ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে। বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭% শুল্ক বসানো হয়েছে, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে তা ২৬%, পাকিস্তানের ২৯% এবং চীনের সর্বোচ্চ ৫৪%।

এ নতুন শুল্কের কারণে পোশাক শিল্পেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। উইকিটেক্স-বিডি নামের একটি বায়িং হাউস জানিয়েছে, তাদের দুটি বড় অর্ডার (৩ লাখ ও দেড় লাখ ডলার) স্থগিত করা হয়েছে। অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এখন মূল্যছাড় দাবি করছে।  

বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান জুন পর্যন্ত সব অর্ডার স্থগিত করেছে এবং জুলাই থেকে নতুন কোনো পণ্য পাঠাতে না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

শীর্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিনস গ্রুপ জানিয়েছে, মার্কিন বাজার থেকে ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।