প্রতিদিন এক ক্যান ডায়েট সোডা পানেই লিভারের মারাত্মক ক্ষতি! নতুন গবেষণার চাঞ্চল্যকর দাবি

জীবনযাপন

বার্লিনে আয়োজিত ইউরোপিয়ান গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি কনফারেন্সে উপস্থাপিত এক নতুন গবেষণায় জানানো হয়েছে, প্রতিদিন মাত্র এক ক্যান ডায়েট সোডা পান করলেই নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) বা মেটাবলিক ডিসফাংশন-সহ স্টিয়েটটিক লিভার ডিজিজ (MASLD)-এর ঝুঁকি প্রায় ৬০ % পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সাধারণ চিনি-যুক্ত পানীয় বা সুগার সোডা পান করলেও একই রোগের ঝুঁকি প্রায় ৫০ % পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়

কী বলছে গবেষণা

চীনের সুজৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংযুক্ত হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের গবেষক লি-হে লিউ নেতৃত্বে এই গবেষণায় যুক্তরাজ্যের UK Biobank-এর প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
এই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কারও লিভার রোগ ছিল না, এবং তাঁদের পানীয় গ্রহণের অভ্যাস ১০ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষক দল জানান—

“সুগার-যুক্ত পানীয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে অনেকেই মনে করেন ‘ডায়েট’ বা ‘লো-সুগার’ পানীয় তুলনামূলক নিরাপদ। আমাদের গবেষণার ফলাফল সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।”

ডায়েট পানীয়েও লুকিয়ে বিপদ

গবেষণার প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, প্রতিদিন এক ক্যান ডায়েট সোডা পান করলে NAFLD-এর ঝুঁকি ৬০ % পর্যন্ত বাড়তে পারে,আর একই পরিমাণ চিনি-যুক্ত সোডা পান করলে ঝুঁকি ৫০ % পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, ডায়েট পানীয় পানকারীদের মধ্যে লিভার ডিজিজ-এর কারণে মৃত্যুর হারও বেশি দেখা গেছে।

সমাধান কোথায়?

গবেষণায় বলা হয়েছে, মিষ্টি বা ডায়েট পানীয়ের পরিবর্তে পানি পান করলে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে সুগারযুক্ত পানীয়ের বদলে পানি পান করলে ঝুঁকি প্রায় ১৩ % কমে, আর ডায়েট পানীয়ের বদলে পানি পান করলে ঝুঁকি ১৫ %-এর বেশি হ্রাস পায়

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজিস্ট ড. সাজিদ জলিল, যিনি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না, মন্তব্য করেন—

“এই গবেষণাটি আগের তুলনায় অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য, কারণ এতে বিপুল সংখ্যক অংশগ্রহণকারী, দীর্ঘ ফলো-আপ এবং নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।”
“ফলাফল স্পষ্ট—সাধারণ পানি বা আনস্যুইটেনড ড্রিঙ্কসই লিভারের জন্য সবচেয়ে ভালো পছন্দ।”

কেন ক্ষতি করে এসব পানীয়

গবেষকদের মতে, সুগারযুক্ত পানীয় রক্তে গ্লুকোজ ও ইনসুলিন দ্রুত বাড়ায়, ফলে ওজন বৃদ্ধি ও লিভারে চর্বি জমে। ডায়েট পানীয়, যদিও ক্যালরি কম, তবে তা গাট মাইক্রোবায়োম পরিবর্তন, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত, মিষ্টি খাবারের আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি, এমনকি ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ানোর মাধ্যমে ক্ষতি করতে পারে।