জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের সরকারি ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চেয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি)সহ সংলাপে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তারা মনে করে, একই দিনে দুই ধরনের ভোট আয়োজন জটিল ও সময়সাপেক্ষ, তাই স্পষ্ট নীতিমালা ও প্রস্তুতি ছাড়া এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির চতুর্থ দিনের সংলাপে ১৩টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। সংলাপে মূলত গণভোটের প্রস্তুতি, মাঠ প্রশাসনে রদবদল, রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ এবং নির্বাচনী আচরণবিধির অসামঞ্জস্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়।
জামায়াত, এনসিপি, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন দল জানতে চায়—গণভোট কীভাবে আয়োজন হবে, ব্যালট কেমন হবে, ভোটার কীভাবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বোঝবে এবং একই দিনে দুই ভোটের ব্যবস্থাপনায় ইসি কতটা সক্ষম।
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, গণভোটসংক্রান্ত নতুন আইন এখনো হয়নি। আইন প্রণয়ন হলেই ইসি এর প্রস্তুতি শুরু করবে।
বিএনপি দাবি তোলে—রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে। জামায়াত জনপ্রশাসনে ধারাবাহিক রদবদলকে “পরিকল্পিত” বলে উল্লেখ করে তফসিলের পর লটারির মাধ্যমে ডিসি-এসপি বদলির দাবি জানায়।
বেশ কয়েকটি দল অভিযোগ করে, আচরণবিধিতে শাস্তির বিধান পরিষ্কার নয়, তদন্ত প্রক্রিয়া উল্লেখ নেই এবং দলগুলোর মতামত ছাড়াই সংশোধন আনা হচ্ছে। পোস্টার নিষিদ্ধ করায় ছোট দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও মন্তব্য করা হয়।
এনসিপির নেতারা বলেন, দলীয়প্রধান ছাড়া অন্য কারও ছবি পোস্টারে নিষিদ্ধ করলে বড় দলের নেতাদের ছবি ব্যবহার হলে ইসি সেই নিয়ম প্রয়োগ করতে পারবে কি না—সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
দলগুলো কালো টাকা, অস্ত্র, পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত নির্বাচন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয়সহ বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে।
সিইসি বলেন, বাস্তবতা উপেক্ষা করে এগোনো সম্ভব নয়। ইসি ধীরে ধীরে এবং সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের মানুষকে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়াই কমিশনের লক্ষ্য।