বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এখনই সময় একটি জবাবদিহিমূলক, ইনসাফভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার। তিনি জানান, দেশের জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত 'জুলাই অভ্যুত্থান' এর প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। একইসঙ্গে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ পতনের দিন। সেই আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শহীদদের স্মরণ করে আমি বলেছিলাম—তারা শুধু আপনজন নয়, তারা জাতির গৌরব। ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই, চব্বিশের যোদ্ধাদের জাতি ভুলবে না।”
তারেক রহমান জানান, শহীদদের স্মরণে ভবিষ্যতে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ করার চিন্তা বিএনপি করছে। তিনি বলেন, “আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তি তৈরি করতে চাই যেখানে জনগণই হবে ক্ষমতার মালিক। তবেই দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। শহীদ পরিবার, আহত আন্দোলনকারী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষসহ ৬৩টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শহীদ পরিবারের সদস্যদের ক্রেস্ট ও সম্মাননা দেওয়া হয়, প্রদর্শিত হয় একটি ডকুমেন্টারি।
তারেক রহমান বলেন, “দেড় দশকের আন্দোলনে অনেক মানুষ গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই-আগস্ট আন্দোলনেই শহীদ হয়েছেন ৪২২ জনের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীসহ অন্তত দেড় হাজার মানুষ। আহত হয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি, পঙ্গু হয়েছেন হাজারেরও বেশি। শহীদের তালিকায় আছে শিশুও। এভাবে কি জীবন দিতে থাকবে মানুষ?”
তিনি আরও বলেন, “৫৪ বছরের ইতিহাসে এ জাতি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। এখন সময় নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রাজনীতি নিশ্চিত করার। ওয়াদাভিত্তিক রাজনীতি ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।”
এ সময় রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের জন্য ঘোষিত বিএনপির ৩১ দফার কথা স্মরণ করিয়ে তারেক রহমান বলেন, “ক্ষমতায় গেলে আমরা জাতীয় সরকার গঠন করে এগুলো বাস্তবায়ন করব। দেশের স্বার্থে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন, যদিও সব দলের ঐকমত্য জরুরি নয়। তবে তাঁবেদার অপশক্তিকে প্রতিহত করতে জাতীয় ঐক্য অটুট থাকবে ইনশাআল্লাহ।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রুহুল কবির রিজভী। সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ ১২ দলীয় জোট ও অন্যান্য শরিক দলের নেতারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ, সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, অধ্যাপক শামসুল আলমসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।