জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সরকারের অস্পষ্ট অবস্থান এবং চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। এসব বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা পাওয়ার লক্ষ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। গত সোমবার (৭ এপ্রিল) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার একটি আবেদন করা হয়েছে। বিএনপি মনে করে, নির্বাচনকেন্দ্রিক সংস্কার একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব এবং অন্যান্য রাজনৈতিক সংস্কার নির্বাচনের পরবর্তী সংসদে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে করা যেতে পারে।
নির্বাচনী রোডম্যাপ ও সংস্কার
বৈঠকে বিএনপি নেতারা বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা। নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংবিধান সংশোধন ছাড়া যেসব পদক্ষেপ জরুরি, তা নির্বাহী আদেশ, অধ্যাদেশ কিংবা প্রশাসনিক নির্দেশনার মাধ্যমে করা সম্ভব বলেও দলটির মত।
বিএনপি এর আগে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে পাঁচটি সংস্কার কমিশন নিয়ে দলীয় মতামত দিয়েছে, যেখানে ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর আগের সংবিধানিক মূলনীতিতে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। দলটি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, তারা ’৭২ সালের মূলনীতিতে নয়, ’৭৯ সালের সংশোধিত নীতিতে ফিরে যেতে চায়, যার মধ্যে ছিল ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ এবং ‘সামাজিক ন্যায়বিচার’।
পহেলা বৈশাখে বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজন
স্থায়ী কমিটি বৈঠকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। ঢাকাসহ দেশের জেলা ও মহানগরে লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।
ফিলিস্তিন সংহতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি
বৈঠকে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরায়েলের হামলা ও গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সিদ্ধান্ত হয়, রাজধানীতে বড় ধরনের বিক্ষোভ আয়োজন করবে বিএনপি। পাশাপাশি ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে দলীয়ভাবে সংহতি জানানো হবে।
পিনাকী ও নেতাদের বক্তব্য প্রসঙ্গে আলোচনা
বৈঠকে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে বিদেশে অবস্থানরত কিছু ইউটিউবার, বিশেষ করে পিনাকী ভট্টাচার্যের বিষোদ্গার নিয়েও আলোচনা হয়। নেতারা এটিকে বিশেষ গুরুত্ব না দেওয়ার পক্ষে মত দেন। এ ছাড়া, দলের কিছু নেতার টকশো ও জনসমক্ষে অসংযত বক্তব্য নিয়ে দলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় দিকনির্দেশনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ
সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।