জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, জুলাই সনদ কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়; এটি একটি কার্যকর দলিল, যার আইনি ভিত্তি থাকা জরুরি। তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি, সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া না দেখে আমরা স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত নেব না। আমাদের এই অবস্থানের কারণেই ঐকমত্য কমিশন সরকারকে সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার সুপারিশ দিয়েছে।”
বুধবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে দুই ধরনের সংস্কারের স্বতন্ত্র বাস্তবায়ন রূপরেখা দেওয়া হয়েছে—একটি সংবিধান সম্পর্কিত নয়, অন্যটি সংবিধান সংশোধনমূলক। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, বিলম্ব না করে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আরও বলেন, “প্রস্তাব–১ এ কিছু ভাষাগত অস্পষ্টতা আছে, যা নিরসন করা প্রয়োজন। তবে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের’ প্রথম ঘোষণাটি—অর্থাৎ প্রস্তাব–১ গ্রহণের মাধ্যমেই সনদের আইনি ভিত্তি স্থাপন সম্ভব।”
তিনি জানান, সুপারিশে চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের ক্ষমতাবলে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ–২০২৫’–এর দুটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। একটিতে বলা হয়েছে, আগামী সংসদে গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন না করলে অন্তর্বর্তী সরকারের তৈরি খসড়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গৃহীত বলে গণ্য হবে। অপরটিতে উল্লেখ আছে, পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে সংস্কার সম্পন্ন করবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “৪৮টি প্রস্তাব সরাসরি সংবিধান সম্পর্কিত। কমিশন এ নিয়ে দুটি স্বতন্ত্র খসড়া দিয়েছে। আমরা মনে করি, প্রস্তাব–১ বাস্তবায়ন করা জরুরি, কারণ এতে (৮) নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সংবিধান সংশোধনের বিল পরিষদ কর্তৃক গৃহীত বলে গণ্য হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এভাবে সংবিধান সংস্থার আইন কার্যকর হলে জুলাই সনদের ওপর গণভোটের রায়ের বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। তাই সরকারকে কমিশনের প্রস্তাবিত প্রস্তাব–১–কেই বাস্তবায়নের ভিত্তি হিসেবে নিতে হবে, প্রস্তাব–২ নয়।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, খালেদ সাইফুল্লাহ, জাবেদ রাসিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মুসা প্রমুখ।