সংবিধান সংস্কারে জামায়াতের অবস্থান: প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় দলটি

রাজনীতি
জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস করার সুপারিশকে সমর্থন জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এককভাবে নিয়োগ না দিয়ে এনসিসির মাধ্যমে তা সম্পন্ন করাই যুক্তিযুক্ত হবে। তবে তারা প্রস্তাবিত এনসিসিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করেছে।

জামায়াত চায়, কেউ দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে না পারলেও সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছরই থাকুক। দলটি আরও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী দলের প্রধান ও সংসদ নেতা একসঙ্গে হতে পারবেন না—এমন ব্যবস্থারও পক্ষে তারা। তবে একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের পাশাপাশি দলীয় প্রধান হতে পারবেন, শুধু সংসদ নেতা হতে পারবেন না।

ঐকমত্য কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশের মধ্যে জামায়াত ৭৭টিতে পূর্ণ সমর্থন, ৩৬টিতে আংশিক সমর্থন এবং ৫৩টিতে ভিন্নমত জানিয়েছে। সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৩১টিতে একমত, ১৬টিতে আংশিক এবং ২৩টিতে একমত নয় বলে জানিয়েছে দলটি।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ শিথিলের পক্ষেও মত দিয়েছে জামায়াত। তারা চায় দলীয় সংসদ সদস্যরা অর্থবিল ও আস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্য বিষয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন।

জামায়াত নির্বাচন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার চায়। তারা সংসদের উভয় কক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির পক্ষে। বিশেষ করে নারী আসনের বণ্টন বিষয়ে তারা চায়—নারীদের জন্য নির্ধারিত ৫০টি আসন দলের এমপি সংখ্যার ভিত্তিতে বণ্টিত হোক। তরুণদের জন্য ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের সুপারিশে তারা আংশিক একমত এবং প্রার্থী হওয়ার বয়সসীমা ২১ বছরে নামিয়ে আনার পক্ষে।

সংসদ ভেঙে গেলে এনসিসি টিকে থাকবে না বলে জানিয়ে জামায়াত আগের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, সর্বশেষ প্রধান বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করে চার মাসের জন্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা উচিত। প্রয়োজনে তা দুই মাস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে জামায়াত চায়, শুধু সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হোক। জেলা পরিষদ, প্রাদেশিক ব্যবস্থা কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর তথ্য উন্মুক্ত করার সুপারিশের বিরোধিতাও করেছে দলটি।

আলোচনার মাধ্যমে সংস্কারের বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণের পক্ষে জামায়াত। কমিশনের দেওয়া বিকল্পগুলো নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট মত দেয়নি তারা। সংবিধান পরিবর্তনে গণভোটের সুপারিশকে জামায়াত সমর্থন করলেও বিএনপি বিরোধিতা করেছে।

জামায়াত আরও জানিয়েছে, তারা সংবিধানে বহুত্ববাদের পরিবর্তে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’কে অন্যতম মূলনীতি হিসেবে দেখতে চায়।

সংক্ষেপে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো:
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করা: একমত, এনসিসি গঠন: একমত, তবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি বাদ, দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয়: একমত, সংবিধান পরিবর্তনে গণভোট: সমর্থন, আনুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন: উভয় কক্ষে চায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার: চায়, সর্বশেষ প্রধান বিচারপতি প্রধান উপদেষ্টা, সংবিধানের মূলনীতি: ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা’ পুনর্বহাল, দলীয় তথ্য উন্মুক্তকরণ ও নিবন্ধন পদ্ধতি: বিরোধিতা, প্রাদেশিক সরকার ও জেলা পরিষদ: বিরোধিতা