“জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন ও সংস্কারে ঐক্যমত ইসলামী আন্দোলন ও গণ অধিকার পরিষদের”

রাজনীতি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে একমত হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণ অধিকার পরিষদ। বুধবার বিকেল সোয়া চারটায় ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুই দলের বৈঠক শেষে যৌথভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের শীর্ষ নেতারা।

ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বৈঠক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে জানান, জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া দরকার, এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার সম্পন্ন করে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে দুই দল একমত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নারীর অধিকারসংক্রান্ত প্রস্তাবনার ‘ইসলামবিরোধী’ দিক বাতিল, মানবতাবিরোধী অপরাধ, খুন এবং অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ এবং একটি ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা—এই বিষয়গুলোতেও মতৈক্য হয়েছে।

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক বলেন, “যদি মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কার না হয়, তাহলে দেশে আবার স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে।” তিনি জুলাই মাসের ‘গণ–অভ্যুত্থানে’ জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান এবং বলেন, এদের রাজনীতি করার অধিকার থাকা উচিত নয়।

সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে দুই দল পূর্ব থেকেই একমত বলে জানান তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন না থাকায় সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃত্ব কায়েম করছে বলে অভিযোগ করেন নুরুল হক।

দুই দলই মনে করে, জাতীয় ঐকমত্য ও সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্য সময় প্রয়োজন। তার আগে স্থানীয় নির্বাচন হলে জনগণের আস্থা কিছুটা পুনঃস্থাপন হতে পারে।

বৈঠকে গণ অধিকার পরিষদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুখপাত্র ফারুক হাসান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, উচ্চতর পরিষদের সভাপতি হাসিবুর রহমান, আইনজীবী নুরে এরশাদ ও সাকিব হোসেন।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন প্রমুখ।