ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের আদালতের রায়ের মাধ্যমে পদে বসানোর প্রবণতাকে সমর্থন করেন না স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে অবৈধ নির্বাচনগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, যা রাজনৈতিক শুদ্ধতার পরিপন্থী।
গত শুক্রবার রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে প্রথম আলোকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আসিফ মাহমুদ এসব মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ প্রসঙ্গ, নিজের মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, বাবার ঠিকাদারি লাইসেন্স, সাবেক এপিএসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
আলোচনার একপর্যায়ে স্থানীয় সরকারে আদালতের রায়ের মাধ্যমে পদে বসা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, "আমি মনে করি, এসব নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণা দিয়ে অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত এই নির্বাচনগুলোকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করা এবং এগুলোর কোনো ফল মেনে না নেওয়ার সততা দেখানো।"
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী বিজয়ী হলেও পরে বিএনপি প্রার্থী শাহাদাত হোসেন আদালতের রায়ে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন। ওই সময় নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে কারচুপির অভিযোগে মামলা করেছিলেন শাহাদাত। পরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আদালত তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে এবং নির্বাচন কমিশন সেই অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করে।
শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল বাতিল করে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে আদালত। ইশরাকও শুরুতে শুধু ফল বাতিলের আবেদন করেছিলেন; পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণার আবেদন করেন।
এ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আদালতের রায়ে যেহেতু আমরা (স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়) পক্ষভুক্ত ছিলাম না, তাই অফিশিয়ালি এ বিষয়ে আমাদের আপত্তি জানানোর সুযোগ নেই। বিষয়টি এখন নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। কমিশন গেজেট জারি করবে নাকি উচ্চ আদালতে আপিল করবে, তা তাদের সাংবিধানিক এখতিয়ার।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শেখ হাসিনার পতনের পর অনেকে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণার জন্য আদালতে আরজি সংশোধন করেছেন। এর মাধ্যমে তারা একটি অবৈধ নির্বাচন থেকে প্রাপ্তিস্বীকার করছেন, যা রাজনৈতিক নৈতিকতার পরিপন্থী।”
বারবার উঠে আসে যে, বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর স্বীকৃতি দিয়ে এগুলোকে বৈধতা দেওয়া হলে গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন তিনি।