ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি অবৈধ সিসা কারখানা বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোয়াইলবাড়ি বাজার এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৮ জন আহত হন, যাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।
আহতদের অভিযোগ, শিমুলিয়া এলাকায় ব্যাটারি গলিয়ে সিসা উৎপাদনকারী একটি অবৈধ কারখানার বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর কারণে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা মাইক্রোবাসে করে এসে দেশি অস্ত্র ব্যবহার করে এ হামলা চালায়।
আহতদের মধ্যে এনসিপির শ্রমিক উইংয়ের কেন্দ্রীয় সংগঠক রিফাত আহমেদ (২৭), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাভার শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব তাওহিদুল ইসলাম (২৩) ও জ্যেষ্ঠ সংগঠক হৃদয় হাসান (২৪) বর্তমানে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিদের সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত হৃদয় হাসান জানান, হামলার সময় হামলাকারীরা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল ইসলাম মুকুলকে ফোন করে বলেন, "তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেউ নয়।" এতে হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও মুকুল তা অস্বীকার করেছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, হামলার সময় কারখানার লোকজন কেন বলেছিল, “আমরা মুকুলকে টাকা দিই, তোমরা কেন বাধা দিচ্ছো?” এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটির সঙ্গে ক্ষমতাসীন কোনো গোষ্ঠীর যোগসূত্রের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আশুলিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং স্থানীয়রা অবৈধ কারখানাটির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ চাচ্ছেন।