উপদেষ্টার বাবার লাইসেন্স বাতিল

বাংলাদেশ
কুমিল্লা জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অবশেষে বাতিল করেছে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বাবা মো. বিল্লাল হোসেনের ঠিকাদারি লাইসেন্স। বৃহস্পতিবার সকালে তার লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল মতিন।

জানা গেছে, ‘মেসার্স ইসরাত এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে গত ১৬ মার্চ ইস্যু করা হয়েছিল এই লাইসেন্সটি। লাইসেন্সটি গ্রহণের সময় ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ, ও ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনসহ সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং ৫,৯০০ টাকার ব্যাংক চালানের মাধ্যমে তা অনুমোদিত হয়। তবে ওই লাইসেন্স ব্যবহার করে এখনো পর্যন্ত কোনো দরপত্রে অংশ নেওয়া হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় যখন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লাইসেন্সের ছবি প্রকাশ করেন। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়ে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে বাবার এই সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “বাবা একজন স্কুলশিক্ষক, এবং একজন স্থানীয় ঠিকাদারের কথায় তিনি এই লাইসেন্স করেছিলেন। বিষয়টি আমি জানতাম না। যেহেতু আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে রয়েছি, এটি স্পষ্টভাবে স্বার্থের সংঘাত। তাই বিষয়টি উপলব্ধি করার পর বাবার পক্ষ থেকে লাইসেন্স বাতিলের আবেদন করা হয়।”

এ বিষয়ে বিল্লাল হোসেন সমকালকে বলেন, “দেশে তো বহু মন্ত্রী-এমপির স্বজনেরা এমন লাইসেন্স নিয়েই কাজ করে। আমিও সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়েছিলাম, কিন্তু ছেলেকে না জানিয়ে করাটা ভুল হয়েছে। সমালোচনার যে ঝড় উঠেছে, তা কল্পনাও করিনি। এখন এই বিষয় নিয়ে আর কোনো বিতর্ক থাকা উচিত নয়।”

বর্তমানে বিল্লাল হোসেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকবপুর গ্রামে অবস্থিত একটি স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন এবং তার অবসর গ্রহণের কথা রয়েছে দুই বছরের মধ্যে।