কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনোয়ার হোসেনকে শাস্তিমূলকভাবে প্রত্যাহার করেছে কর্তৃপক্ষ। একটি অডিও রেকর্ডে এক ছাত্রনেতার কাছে 'জিলাপি খাওয়ার' অনুরোধের ঘটনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওসি মনোয়ার হোসেনকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং ইটনা থানায় নতুন ওসি পদায়ন করা হয়েছে।
অডিও রেকর্ডটিতে শোনা যায়, ওসি মনোয়ার হোসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইটনা উপজেলা সংগঠক আফজাল হুসাইনের সঙ্গে কথা বলছেন। কথোপকথনে ওসি বলেন, “তোমরা যে ১৮ লাখ টাকার কাজ করে ১০ লাখ টাকা লাভ করলা, ১০ টাকার জিলাপি কিনে তো পাবলিকরে খাওয়াইলা না।” তিনি আরও বলেন, “তোমার জায়গায় আমি হইলে সুদের ওপরে টাকা আইনা আগেই জিলাপি খাওয়াইতাম।”
জানা গেছে, আফজাল হুসাইন ইটনা সদর ইউনিয়নের ফসলরক্ষা বাঁধের একটি প্রকল্পের কাজ করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, ১৪৮০ মিটার ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। আফজাল দাবি করেন, তিনি এই প্রকল্পের কাজ শেষ করে থানায় গেলে ওসি তাঁর কাছে 'জিলাপি খাওয়ানোর' অনুরোধ জানান।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ওসি মনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তিনি কথোপকথনের অডিও শুনেছেন এবং সেটি ছিল মজার ছলে বলা। তিনি বলেন, “গত দুই মাস ধরে আফজালের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে বলে মনে পড়ে না। তবে হয়তো জিলাপি বিতরণের সময় ফোনে এমন কিছু বলেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, অডিও এডিট করে ছড়ানো হয়েছে এবং এটি একটি ষড়যন্ত্র হতে পারে।
এদিকে, পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।