জামানত হারিয়েও মেয়র হওয়ার দাবি শফিকুর রহমানের: ‘আমি জয়ী হয়েছি, এটুকুই চাওয়া’

বাংলাদেশ
খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান আবারো মেয়র হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনে মাত্র ১৭ হাজার ২১৮ ভোট পেয়ে জামানত হারালেও, তিনি দাবি করছেন, নির্বাচনে প্রকৃত বিজয়ী তিনিই।

সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে শফিকুর রহমান দাবি করেন, “আমি জয়ী হয়েছি, এটুকুই চাওয়া, শুধু সেটি ঘোষণা দেওয়া হোক।”

এর আগে খুলনায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২০২৩ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলেন এবং নিজেকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করার দাবি জানান। তিনি জানান, ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার’ অপসারিত হওয়ার পর তিনি নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগে তিনটি দরখাস্ত করেছেন।

শফিকুরের দাবি, তিনি উচ্চ আদালতে রিট করে ইতিমধ্যে আদালতের অনুকূলে রায় পেয়েছেন এবং আদালত কমিশনকে তার দরখাস্ত ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। সিইসি তাঁকে জানিয়েছেন, কমিশন আইনের আলোকে পদক্ষেপ নেবে।

২০২৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮২৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। দ্বিতীয় স্থান পেয়েছিলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবদুল আউয়াল (৬০ হাজার ৬৪ ভোট)। শফিকুর রহমান পেয়েছিলেন চতুর্থ সর্বোচ্চ ভোট এবং জামানত হারান।

শুধু শফিকুর নন, সরকার পরিবর্তনের পর কয়েকজন বিএনপি প্রার্থীও আদালতের রায়ে মেয়র ঘোষিত হয়েছেন। চট্টগ্রামে শাহাদাত হোসেন এবং ঢাকা দক্ষিণে ইশরাক হোসেন আদালতের রায়ে নির্বাচিত হলেও ইশরাক এখনও শপথ নিতে পারেননি।

এই প্রেক্ষাপটে শফিকুর রহমানের দাবিও নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কী সিদ্ধান্ত নেয়।