ঢাকা সেনানিবাস ও আশপাশের এলাকায় সকল ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। রোববার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, কচুক্ষেত সড়ক, বিজয় সরণী, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সংলগ্ন এলাকা, শহীদ জাহাঙ্গীর গেট, বিএএফ শাহীন কলেজ, মহাখালী ফ্লাইওভার এলাকা, সৈনিক ক্লাব মোড়, ভাষানটেক, মাটিকাটা, ইসিবি চত্বরসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে কোনো ধরনের গণজমায়েত করা যাবে না। এ সিদ্ধান্ত জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেয়া হয়েছে বলেও জানায় আইএসপিআর।
এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া সৈনিক মো. নাইমুল ইসলামকে ‘নাশকতার পরিকল্পনা’র অভিযোগে আটক করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন বটতলা এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে।
আইএসপিআরের দাবি, বরখাস্ত হওয়া নাইমুল দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করে আসছিলেন এবং ১৮ মে ক্যান্টনমেন্টে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। শনিবার সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে নাইমুল দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালান বলে জানানো হয়। পরে টহল দল গিয়ে তাকে আটক করে।
আইএসপিআর আরও জানায়, স্ত্রীকে যৌতুকের দাবি ও শারীরিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের কারণে তাকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আনুষঙ্গিক আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে, ঢাকার খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্ট থানার কর্মকর্তারা জানান, নাইমুলের আটকের বিষয়ে তারা এখনো কোনো তথ্য পাননি।
এর আগে গত বুধবার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সাবেক সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল, যেন তারা শৃঙ্খলা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের দাবি তুলে ধরেন। জানানো হয়, ইতোমধ্যে ৮০২টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০৬টি চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য রেকর্ডে পাঠানো হয়েছে। বাকি আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এর আগেও বরখাস্ত বা অবসরে যাওয়া সেনাসদস্যরা 'সহযোদ্ধা' নামে একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে চাকরি পুনর্বহাল ও প্রাপ্য সুবিধা আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান কর্মসূচিও ছিল তারই অংশ।
ঢাকা মহানগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। এর মধ্যে সচিবালয়, যমুনা বাসভবন, সুপ্রিম কোর্ট এলাকা, জজ কমপ্লেক্স ইত্যাদিও রয়েছে। এ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নাগরিক দুর্ভোগ ঠেকাতে।