বাংলাদেশে ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হলেও বাজারে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র—মাছের সরবরাহ কম, আর দাম বেড়েছে লাগামহীনভাবে। চাঁদপুর, বরগুনা, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় মোকামগুলোতে ক্রেতারা এখন হতাশ। মৌসুমের শুরুতেই বড় আকারের ইলিশের কেজি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এক কেজির ওপরের মাছ ৪ হাজার টাকায়ও পৌঁছেছে।
মৎস্য কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ইলিশের জন্য উপযোগী বর্ষা মৌসুমেও ঘাটে মাছ নামছে অপ্রতুল পরিমাণে। বরগুনা, ভোলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ উপকূলীয় অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি সংগঠিত সিন্ডিকেট মাছের দামের উপর অযৌক্তিক প্রভাব ফেলছে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন এই পরিস্থিতি রোধে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি প্রস্তাব পাঠান, যেখানে কেন্দ্রীয়ভাবে ইলিশের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়। তার উদ্যোগে বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুমোদন পেয়েছে। ইতিমধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বাজারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে বরিশালের পোর্ট রোডে দেখা গেছে, অল্প কিছু ইলিশ এসেছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। আড়তদাররা জানান, বৈরী আবহাওয়া এবং ট্রলারের কম উপস্থিতির কারণে মাছ ধরা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি, গত বছর অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে জাটকা নিধন হওয়ায় এবারের মৌসুমে উৎপাদনও কমেছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ইলিশের এই ঘাটতির পেছনে প্রকৃতির পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থার বড় দুর্বলতাও দায়ী। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় বাজারে মূল্য অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রে নীতিগত হস্তক্ষেপ ও কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি। জেলেরা যেখানে পরিশ্রম করেও ন্যায্য মূল্য পান না, সেখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপটে ভোক্তা ও উৎপাদক—দু’পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই কেন্দ্রীয়ভাবে মূল্যসীমা নির্ধারণ ও বাজার মনিটরিং জোরদার করা ছাড়া এই সংকট থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।