মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় নাম পরিবর্তনের সুপারিশ

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সাম্প্রতিক এক সভায় 'মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়'-এর নাম পরিবর্তন করে 'নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়' করার সুপারিশ করা হয়েছে।

২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই সভায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. ফিরোজ উদ্দিন খলিফা প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। এতে শুধু মূল মন্ত্রণালয়ের নয়, তার অধীনস্থ সংস্থাসমূহ ও পদবিগুলোর নামও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যেমন:

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর → নারী অধিদপ্তর
জাতীয় মহিলা সংস্থা → জাতীয় নারী সংস্থা
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা → উপজেলা নারী উন্নয়ন কর্মকর্তা

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের সংবিধান, নীতিমালা এবং সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতে ‘মহিলা’ শব্দের তুলনায় ‘নারী’ শব্দটি অধিক গ্রহণযোগ্য ও সময়োপযোগী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশে-বিদেশে নারী-সম্পৃক্ত বিষয়াবলীতে এই শব্দের প্রাধান্য স্পষ্ট।

১৯৮৯ সালে 'সমাজকল্যাণ ও মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়' ভেঙে আলাদা দুটি মন্ত্রণালয় গঠনের পর ১৯৯৪ সালে শিশুবিষয়ক কার্যক্রম ‘মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তখন থেকেই এর নাম হয় ‘মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়’। এবার এই নামটি আধুনিক পরিপ্রেক্ষিতে আরও যথাযথভাবে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই নাম পরিবর্তনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের সম্মতি গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে, জাতীয় মহিলা সংস্থা আইন, ১৯৯১-এ সংশোধন এনে ‘জাতীয় নারী সংস্থা’ নামটি কার্যকর করতে হবে।

এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক পরিভাষায় নারীর মর্যাদা ও আধুনিক ভাষা ব্যবহারের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।