রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) যেন সময়োপযোগী ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, সে জন্য বিদ্যমান আইন ও নীতিমালায় মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, বর্তমান টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট ও বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট অল্প কিছু সংশোধনে যথেষ্ট নয়, এসব নতুনভাবে প্রণয়ন করতে হবে সময় ও বাস্তবতার চাহিদা অনুযায়ী। রাজউকের বোর্ডে শুধু আমলারা থাকলে চলবে না, সেখানে দক্ষ নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তি জরুরি।
বুধবার বিকেলে রাজউকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, রাজউক চেয়ারম্যানের রেসিডেনশিয়াল ভবনকে কমার্শিয়াল করার ক্ষমতা থাকা উচিত নয়। পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে নয়, বরং মহাপরিকল্পনার কাঠামোর মধ্যেই বোর্ডের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
নতুন ভিশনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের উন্নয়নে এমন একটি সমন্বিত ভিশন প্রয়োজন যেখানে সিভিল সোসাইটি, সাধারণ জনগণ এবং রাজউক সবাই অংশগ্রহণ করবে। ঢাকার ওপর চাপ কমাতে সেবার বিকেন্দ্রীকরণও জরুরি।
তিনি আরো বলেন, রাজউক কি রেগুলেটর, না ডেভেলপার, এটি সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। রাজউককে হাউজিং প্রকল্প করা থেকে বিরত রাখতে হবে, বরং গৃহহীনদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, ধনীদের জন্য নয়।
তিনি মাস্টারপ্ল্যানভিত্তিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বেসরকারি হাউজিং নিয়ন্ত্রণে এখন কঠোর ব্যবস্থা দরকার। রাজউক যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
পূর্বাচলের জমি ধ্বংসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মন্ত্রী-এমপিদের জন্য হাউজিং প্রকল্পের কোনো যৌক্তিকতা নেই। পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও জাতীয় স্থাপনা রক্ষায় রাজউককে দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি প্রকল্পের এক্সিট প্ল্যান থাকতে হবে, সেবাকে ডিজিটালাইজ করতে হবে, এবং জনঅভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। রাজউকের কার্যক্রমে অডিট এবং সুপারভিশনের জন্য বাইরের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা দরকার।
তোতাইল বিলসহ জলাশয় পুনঃখনন, রাস্তার পাশে গাছ লাগানো, ও মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা—এসব বিষয়কেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলামসহ রাজউকের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা।